আশরাফ ইলিয়াস
ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক গগনে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা ইংরেজ বেনিয়াদের অত্যাচারে মানুষ যখন অতিষ্ঠ, ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যখন চলছে দুর্বার আন্দোলন, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা যখন তাদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন মরণ সংগ্রামে রত ঠিক সেই সময়ে ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলার উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা পরিবেষ্টিত বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কমল ; যিনি কিনা ইতিহাসের পাতায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নামে পরিচিত । জিয়াউর রহমানের প্রিয় দাদা মৌলভি কামাল উদ্দিন (কামাল পণ্ডিত) প্রিয় নাতির নাম রাখেন কমল। কমল অর্থ পদ্ম। তিনি বলেন, আমার এ পদ্ম একদিন তাঁর সৌরভ সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দেবে।কালের প্রবাহে প্রিয় দাদার সেই ভবিষ্যৎ বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে।
শুধু ভারতবর্ষ নয় সমগ্র বিশ্বে জিয়াউর রহমান এঁর দেশপ্রেম,সততা,রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সৌরভ ছড়িয়ে জাতীয়তাবাদ দর্শনের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
১৯৭১ সাল; এক দিশেহারা জাতিকে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে পথ দেখিয়েছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ভেসে উঠেছিল সেই বজ্রকণ্ঠ
I, Major Ziaur Rahman, do hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established. I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our motherland.
শুধু ঘোষণা নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্সের ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে নিজের জীবন বাজি রেখে রণাঙ্গনে প্রাণপণ যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের অদক্ষতা, দুর্নীতি, আগ্রাসী মনোভাব দেশের সামাজিক নিরাপত্তা,অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। কমরেড সিরাজ সিকদার হত্যাসহ বিরোধী মত দমন, দুর্নীতির কবলে '৭৪ এর দুর্ভিক্ষ, বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
এমতাবস্থায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব একদল বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন। ক্ষমতা গ্রহণ করে আওয়ামী নেতা মোস্তাক। গৃহবন্দী করা হয় দেশপ্রেমিক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে ১৯৭৫ সালের ৭ ই নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে।
বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে অবরুদ্ধ জাতিকে বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন,সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দুর্ভিক্ষে জর্জরিত জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৯ দফা বাস্তবায়নে জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রা শুরু করে যা সারা বিশ্বের নজর কাড়ে।
জিয়ার সততা, দূরদর্শিতা স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথকে ত্বরান্বিত করে। ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল জিয়াউর রহমান জনগণের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
"জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মাঘের শেষে বর্ষণ হয়েছিলো কিনা তা কেউ হিসেব রাখেনি ; তবে বাংলাদেশের মানুষ একজন সৎ নিষ্ঠাবান রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছিলো। যাঁর নিজের বা নিজের আত্মীয়স্বজনের জন্য টাকা পয়সা লুঠপাটের চিন্তা তাঁর মাথায় ছিলো নেই। বরং তাঁর মাথায় ছিল দেশের চিন্তা, দেশের মানুষের চিন্তা। যিনি খাল কেটে দেশ বদলাতে চেয়েছিলেন। প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কৃষিতে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়েছিলেন।
জিয়া মানুষটা সৎ ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। লোক দেখানো সৎ না, আসলেই সৎ। তাঁর মৃত্যুর পর দেখা গেল জিয়া পরিবারের কোনো সঞ্চয় নেই ।"
(হুমায়ূন আহমেদ, দেয়াল, পৃষ্ঠা-১৯৩)
"সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মাওলানা ভাসানী'কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলো হুজুর আপনাকে তো সবসময়ই সরকার বিরোধী ভূমিকায় দেখা যায় এমনকি যখন আপনার নিজের দল মন্ত্রীসভা গঠন করেছিলেন তখনও আপনি এক জনসভায় দাঁড়িয়ে আপনার পাশে বসা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তৃতা দিয়েছেন। অথচ দেখা যায়; আপনি জিয়াউর রহমানের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। জিয়ার প্রতি আপনার এ দুর্বলতার কারণ কি?
মাওলানা ভাসানী জবাবে বলেছিলেন: দেখ! তোমরা তো রাজনীতি দেখছো বহুদিন ধরে, আমার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশে এমন একটা লোক তো কখনও দেখলাম না যে ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছে নিজেকে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে রাখতে পেরেছে। আমাকে একটা উদাহরণ দেখাও..."
জিয়ার সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আজ কোটি তরুণের হৃদয় ছুঁয়ে লালিত হচ্ছে সারা বাংলাদেশে। জিয়া আজ সততা আর আদর্শের মূর্ত প্রতীক।
শহীদ জিয়া বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি,দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক সংগঠন সার্ক গঠনসহ বিশ্ব রাজনীতিতেও তার সততা,দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
সেই কমল (জিয়া) পদ্মের সৌরভ ঠিকই উপমহাদেশ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এভাবেই তিনি বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সবার প্রিয়ো জিয়া হয়ে ওঠেন ।
-হুমায়ূন আহমেদ অর্ক-
সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,নেত্রকোণা জেলা ছাত্রদল,
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ময়মনসিংহ
জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ
সভাপতি,
নেত্রকোণা জেলা জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ
সদস্য, জিয়াউর রহমান আর্কাইভ।